রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
পিরোজপুর প্রতিনিধি ॥ পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবকাঠামোগত সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় বহির্বিভাগে একই কক্ষে বসে গাদাগাদি করে রোগী দেখছেন দুইজন চিকিৎসক। ফলে রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবার মানও কমে যাচ্ছে।
শনিবার (৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগের একটি ছোট কক্ষে দুইজন চিকিৎসক পাশাপাশি বসে রোগী দেখছেন। একই কক্ষে রোগী ও স্বজনদের ভিড় থাকায় সেখানে তিল ধারণের জায়গা নেই। একসঙ্গে দুইজন রোগীর সমস্যা শোনার কারণে চিকিৎসা কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে নারী রোগীরা ব্যক্তিগত সমস্যার কথা চিকিৎসকের কাছে খোলামেলা বলতে অস্বস্তি বোধ করছেন। চিকিৎসা নিতে আসা পারুল বেগম বলেন, “একই কক্ষে অনেক মানুষের উপস্থিতিতে নিজের সমস্যা বলা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে চিকিৎসা নিতে অস্বস্তি লাগে।”
কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুব্রত কর্মকার জানান, চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়লেও পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় সেবাদানে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে পুরনো একটি অস্থায়ী ভবনে ঝুঁকি নিয়েই চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেক কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় একই কক্ষে দুইজন চিকিৎসক বসে রোগী দেখতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে রোগীদের প্রয়োজনীয় গোপনীয়তা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
এছাড়া ভবন সংকটের কারণে হাসপাতালে অনেক জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা যাচ্ছে না। ফলে কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর আগে স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর হাসপাতালের ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। ২০০৮ সালে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও নানা অনিয়মের কারণে বর্তমানে সেই কাজ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামো দ্রুত উন্নয়ন করা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতালটির সেবার মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply